দাওয়াতের জন্য বিসিএস ভালো না আলেম হওয়া? বর্তমান প্রেক্ষাপটে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা

দাওয়াতের জন্য বিসিএস ভালো না আলেম হওয়া? বর্তমান প্রেক্ষাপটে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা Leave a comment

প্রশ্নঃ যদি কারো মাদ্রাসা এবং সাধারণ শিক্ষা উভয়ই থাকে তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে একজন দ্বীনের দায়ী হিসেবে পাশাপাশি পেশাহি হিসেবে তার জন্য কোনটি জরুরী বা উচিত অথবা উত্তম বিসিএস দিয়ে সরকারি কর্মকর্তা হয়ে দাওয়াতের কাজ করা নাকি দ্বীনের ফকি আলেম হয়ে দাওয়াতি কাজ করা সুস্পষ্ট মতামত চাই।

জাযাকুমুল্লাহ খায়রান। আমার যদি সুস্পষ্ট মতামত চান, তা আমি আলেম হওয়ার কোন বিকল্পে বিশ্বাস করি না। বিষয়টা হলো যুদ্ধের ময়দানে সৈনিকেরা শহীদ হয়। ঠিক না? সৈনিকেরা যে এটম বোমা বানায় সে কি শহীদ হয়? সেনাপতি যে ইলেকট্রনিক বক্সের ভিতরে বসে কমান্ড দিচ্ছে সে কি শহীদ হয়? শহীদ তো হয় সৈনিকেরা।

আর যিনি এটম বোমা বানান বোমা তৈরি করেন অথবা যিনি মূল সেনাপতি তারা কিন্তু শহীদ হয় না। দাম কার বেশি? হ্যা খুব ভালো করে বোঝেন। সেনাপতির দাম বেশি। আলেমরা হল সেনাপতি।

একজন ডিসি তার ঈমান এবং সততা থাকলেই অর্থাৎ আমরা এরকম আমাদের বর্তমানেও সমাজে যারা সিভিল সার্ভিসের অফিসার অনেকেই সৎ। অনেক মানুষ সৎ আছেন। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের হাত পা আইনে বাধা থাকে। তাদের জন্য কিছু কাজ তারা ভালো পারেন। কিছু কাজ মোটেই পারেন না।

দুই নম্বর হলো যিনি সৎ মুত্তাকী কিন্তু এলেম নেই, আলেম নন, প্রাতিষ্ঠানে গভীর ফিকহি জ্ঞান নেই, কোরআন সুন্নাহর জ্ঞান নেই, তার জন্য ডিসি হওয়া নিঃসন্দেহে। উত্তম প্রশাসনিক কর্মকর্তা হওয়া উত্তম। এর মাধ্যমে যতটুক পারেন, বিচারক হয়ে যতটুক পারেন দ্বীনের কাজ করবেন। মানুষের সেবা করবেন।

কিন্তু যার এলেম আছে তার আরেকটা অস্ত্র আছে সেটা হল দ্বীনের এলেম। প্রশাসনিক দায়িত্বে গেলে সে এই এলেমের কখনোই ব্যবহার করতে পারেনা। বিশেষ করে সিভিল সার্ভিসে কোন স্বাধীনতা নেই। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু স্বাধীনতা পাই। এছাড়া এমনকি সরকারি চাকরি যারা করেন শিক্ষকতার, তাদেরও স্বাধীনতা নেই। এজন্য আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি। ১০০০ ডিসির চেয়ে একজন মাওলানা আব্দুর রহিম, একজন মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী, একজন মাওলানা রুহুল আমিন উম্মতের অনেক বেশি কাজ করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

SHOPPING CART

close