অন্যকে নিয়ে উপহাস করার ভয়াবহ পরিণতি: একটি ইসলামিক সতর্কবার্তা Leave a comment

আমাদের সমাজে অন্যকে নিয়ে হাসি-ঠাট্টা বা বিদ্রূপ করাটা অনেকটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কিন্তু আমরা কি জানি, যাকে নিয়ে আমরা হাসছি, আল্লাহর কাছে তার মর্যাদা আমাদের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে? এমনকি অন্যের কোনো শারীরিক বা মানসিক অবস্থাকে নিয়ে ঠাট্টা করলে, আপনি নিজেও সেই অবস্থায় পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

মা আয়েশা (রা.)-এর বর্ণিত ঐতিহাসিক ঘটনা

“একবার এক বিপদগ্রস্ত বা অসুস্থ লোক একদল নারীর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁকে দেখে মহিলারা বিদ্রূপের হাসি হাসতে শুরু করল। পরিণামে দেখা গেল, তাদের মধ্যে যারা উপহাস করেছিল, তারা নিজেরাও অচিরেই সেই একই বিপদে বা রোগে আক্রান্ত হলো।”

— (আল-আদাবুল মুফরাদ)

এই বর্ণনাটি আমাদের শিখিয়ে দেয় যে, কারো কষ্ট বা অসুস্থতা নিয়ে উপহাস করার ফল কত দ্রুত দুনিয়াতে নেমে আসতে পারে।

শায়খ আবদুর রাজ্জাক আল-বাদরের মূল্যবান নসিহা

বিখ্যাত আলেম শায়খ আবদুর রাজ্জাক আল-বাদর (হাফিজাহুল্লাহ) এই ঘটনার ব্যাখ্যায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা বলেছেন:

  • দুনিয়া ও আখিরাতের শাস্তি: আল্লাহ তাআলা সেই নারীদের কয়েকজনকে দুনিয়াতেই হাতে-নাতে শাস্তি দিয়েছিলেন। মনে রাখতে হবে, কোনো উপহাসকারী যদি দুনিয়ার শাস্তি থেকে বেঁচেও যায়, পরকালে তার জন্য অপেক্ষা করছে ভয়াবহ আজাব।
  • মানুষের দুই শ্রেণি: এ ক্ষেত্রে মানুষ মূলত দুই ভাগে বিভক্ত—একদল হলো তারা, যারা ভুল বুঝতে পেরে তওবা করে আল্লাহর পথে ফিরে আসে; আর অন্যদল হলো সেই জালিমরা, যারা তুচ্ছতাচ্ছিল্যের মাধ্যমে নিজের ভাইদের মনে কষ্ট দিয়ে বেড়ায়।

কেন এই বিদ্রূপের মানসিকতা?

শায়খ প্রশ্ন তুলেছেন— কেন এই হীনম্মন্যতা? কেনই বা আমরা অন্যকে নিয়ে গিবত করি? মহান আল্লাহ তো স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন— “নিশ্চয়ই মুমিনরা একে অপরের ভাই।” (সূরা আল-হুজুরাত: ১০)। তবে আমাদের সেই ভ্রাতৃত্বের টান কোথায় হারিয়ে গেল?

বাস্তবতা হলো, যাকে আপনি আজ ছোট করছেন, আল্লাহর কাছে তাঁর মর্যাদা আপনার চেয়ে বহুগুণ বেশি হতে পারে। বিদ্রূপের এই বিষাক্ত আচরণ কেবল সেই হৃদয় থেকেই বের হয়, যা ভেতরে কোনো আত্মিক ব্যাধিতে (Sickness of Heart) আক্রান্ত। নির্মল ও বিনয়ী হৃদয়ের অধিকারী কোনো মানুষ কখনও কাউকে বিদ্রূপ করতে পারে না।


আমাদের করণীয়

  1. কারো ত্রুটি বা শারীরিক অবস্থা নিয়ে কখনও বিদ্রূপ করবেন না।
  2. অন্যের বিপদ দেখে উপহাস না করে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করুন।
  3. নিজের হৃদয়ের পবিত্রতা রক্ষা করুন এবং মুমিন ভাইদের সম্মান করতে শিখুন।

আদব, আখলাক ও আত্মশুদ্ধি বিষয়ক আরও গুরুত্বপূর্ণ বই সংগ্রহ করতে ভিজিট করুন আমাদের ই-কমার্স সেকশনে।

তথ্যসূত্র: শায়খ আবদুর রাজ্জাক আল-বাদর, শরহুল আদাবিল মুফরাদ, পাঠ নং ১১৮।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

SHOPPING CART

close