بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
আল্লাহর ৯৯টি সুন্দর নাম
আসমাউল হুসনা — অর্থ, উচ্চারণ, ব্যাখ্যা ও কুরআনের রেফারেন্স
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: «إِنَّ لِلَّهِ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ اسْمًا مَنْ أَحْصَاهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ»
“নিশ্চয়ই আল্লাহর ৯৯টি নাম আছে। যে ব্যক্তি এগুলো আয়ত্ত করবে (মুখস্থ করবে, অর্থ বুঝবে ও আমল করবে), সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” (বুখারি: ২৭৩৬, মুসলিম: ২৬৭৭)
০১
ٱلرَّحۡمَٰن
আর-রাহমান
পরম দয়ালু
ব্যাখ্যা
আর-রাহমান আল্লাহর এমন একটি গুণবাচক নাম যা তাঁর অসীম ও ব্যাপক রহমত বা দয়াকে বোঝায়। এই দয়া দুনিয়ায় মুমিন-কাফির নির্বিশেষে সকলের জন্যই প্রযোজ্য। বৃষ্টি, সূর্যালোক, রিযিক — সবকিছুতেই তাঁর রহমানিয়্যাত প্রকাশ পায়।
📖
সূরা আল-ফাতিহা (১:৩): «بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ» — “আল্লাহর নামে শুরু করছি, যিনি পরম দয়ালু, নিত্য মেহেরবান।”
০২
ٱلرَّحِيم
আর-রাহিম
নিত্য মেহেরবান
ব্যাখ্যা
আর-রাহিম আল্লাহর সেই বিশেষ ও বিশেষভাবে কেন্দ্রীভূত রহমত বোঝায় যা শুধুমাত্র মুমিনদের জন্য নির্দিষ্ট, বিশেষত আখিরাতে। রাহমান যেখানে সাধারণ দয়া, সেখানে রাহিম হলো বিশেষ ও গভীর ভালোবাসাময় দয়া যা তওবাকারী বান্দার প্রতি আল্লাহ বারবার দেখান।
📖
সূরা আল-বাকারা (২:১৪৩): «إِنَّ اللَّهَ بِالنَّاسِ لَرَءُوفٌ رَّحِيمٌ» — “নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল, পরম দয়ালু।”
০৩
ٱلۡمَلِك
আল-মালিক
সার্বভৌম রাজাধিরাজ
ব্যাখ্যা
আল-মালিক অর্থ সার্বভৌম মালিক ও রাজা। সমগ্র আসমান-জমিনের রাজত্ব একমাত্র তাঁরই। পার্থিব রাজা-বাদশাহরা নশ্বর, কিন্তু আল্লাহর রাজত্ব চিরন্তন ও নিরঙ্কুশ। কেয়ামতের দিন তিনি ঘোষণা করবেন: “আজ কার রাজত্ব? — একমাত্র এক-অদ্বিতীয় আল্লাহর।”
📖
সূরা আল-হাশর (৫৯:২৩): «هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْمَلِكُ الْقُدُّوسُ» — “তিনিই আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি সার্বভৌম মালিক।”
০৪
ٱلۡقُدُّوس
আল-কুদ্দুস
পবিত্রতম
ব্যাখ্যা
আল-কুদ্দুস মানে সম্পূর্ণ পবিত্র — যিনি সকল ত্রুটি, অপূর্ণতা ও দোষ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। ফেরেশতারা আরশের চারপাশে ঘুরে ঘুরে তাঁর পবিত্রতার তাসবিহ পড়েন। কোনো কিছুই তাঁর মতো পবিত্র নয়, তাঁর সদৃশ কেউ নেই।
📖
সূরা আল-জুমুআ (৬২:১): «يُسَبِّحُ لِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ الْمَلِكِ الْقُدُّوسِ» — “আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর তাসবিহ পড়ে, যিনি সার্বভৌম মালিক, পবিত্রতম।”
০৫
ٱلسَّلَٰم
আস-সালাম
শান্তির উৎস
ব্যাখ্যা
আস-সালাম অর্থ তিনি সকল দোষ-ত্রুটি ও অভাব থেকে মুক্ত এবং তিনিই সত্যিকারের শান্তি ও নিরাপত্তার উৎস। জান্নাতকে ‘দারুস সালাম’ বলা হয় কারণ সেটি আল্লাহর পক্ষ থেকে শান্তির আবাস। মুমিনরা নামাজের শেষে তাঁর সালাম থেকে সালামতি প্রার্থনা করেন।
📖
সূরা আল-হাশর (৫৯:২৩): «الْمَلِكُ الْقُدُّوسُ السَّلَامُ الْمُؤْمِنُ» — “তিনি সার্বভৌম মালিক, পরম পবিত্র, শান্তির উৎস, নিরাপত্তাদাতা।”
০৬
ٱلۡمُؤۡمِن
আল-মু’মিন
নিরাপত্তাদাতা
ব্যাখ্যা
আল-মু’মিন মানে যিনি বিশ্বাসযোগ্যতা দেন এবং তাঁর বান্দাদের ভয় ও বিপদ থেকে নিরাপত্তা দান করেন। তিনি তাঁর নবী-রাসূলদের সত্যায়ন করেছেন, তাঁর কিতাবে সত্যের প্রমাণ দিয়েছেন এবং মুমিনদের আখিরাতে নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
📖
সূরা আল-হাশর (৫৯:২৩): «السَّلَامُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَيْمِنُ» — “তিনি শান্তির উৎস, নিরাপত্তাদাতা, রক্ষক।”
০৭
ٱلۡمُهَيۡمِن
আল-মুহাইমিন
সর্বরক্ষক
ব্যাখ্যা
আল-মুহাইমিন মানে সর্বোচ্চ পর্যবেক্ষক ও রক্ষক। তিনি তাঁর সকল সৃষ্টির উপর সম্পূর্ণ নজর রাখেন এবং তাদের সব কর্ম, জীবন ও মৃত্যু নিয়ন্ত্রণ করেন। গাছের পাতাও তাঁর অনুমতি ছাড়া পড়ে না।
📖
সূরা আল-মায়িদা (৫:৪৮): «وَأَنزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ الْكِتَابِ وَمُهَيْمِنًا عَلَيْهِ» — “আমি তোমার কাছে কিতাব নাযিল করেছি সত্যসহ, পূর্ববর্তী কিতাবের সত্যায়নকারী ও সংরক্ষক হিসেবে।”
০৮
ٱلۡعَزِيز
আল-আযিয
মহাশক্তিমান
ব্যাখ্যা
আল-আযিয মানে সর্বোচ্চ ইজ্জত ও শক্তির অধিকারী। তিনি এমন সর্বশক্তিমান যে কেউ তাঁকে পরাজিত করতে পারে না, তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছু করতে পারে না। পৃথিবীতে যে কেউ সম্মান পায়, তা তাঁরই দান; এবং তিনি যাকে ইচ্ছা লাঞ্ছিত করেন।
📖
সূরা আল-বাকারা (২:২২০): «إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ» — “নিশ্চয়ই আল্লাহ মহাশক্তিমান, প্রজ্ঞাময়।”
০৯
ٱلۡجَبَّار
আল-জাব্বার
মহাপ্রতাপশালী
ব্যাখ্যা
আল-জাব্বার মানে যিনি স্বীয় ইচ্ছা কার্যকর করেন, ভগ্নহৃদয়কে জোড়া লাগান এবং সকল সৃষ্টির উপর অপ্রতিরোধ্য ক্ষমতা রাখেন। ‘জাবর’ শব্দটি ‘ভাঙা হাড় জুড়ে দেওয়া’র অর্থেও ব্যবহৃত হয়; তিনি আহত ও দুর্বল বান্দার হৃদয় সারিয়ে তোলেন।
📖
সূরা আল-হাশর (৫৯:২৩): «الْعَزِيزُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّرُ» — “তিনি মহাশক্তিমান, মহাপ্রতাপশালী, সর্বোচ্চ মহান।”
১০
ٱلۡمُتَكَبِّر
আল-মুতাকাব্বির
সর্বোচ্চ মহান
ব্যাখ্যা
আল-মুতাকাব্বির মানে যিনি তাঁর সৃষ্টির উপরে সুমহান এবং তাঁর সত্তা ও গুণাবলিতে অতুলনীয়। মানুষের অহংকার দোষনীয়, কিন্তু আল্লাহর কিবরিয়া বা মহত্ত্ব তাঁর একমাত্র অধিকার — কারণ সত্যিকারের মহত্ত্ব কেবল তাঁরই।
📖
সূরা আল-হাশর (৫৯:২৩): «سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يُشْرِكُونَ» — “তারা যা শরিক করে তা থেকে আল্লাহ পবিত্র।”
১১
ٱلۡخَٰلِق
আল-খালিক
স্রষ্টা
ব্যাখ্যা
আল-খালিক মানে যিনি শূন্য থেকে সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। কোনো নমুনা বা পূর্বের অস্তিত্ব ছাড়াই তিনি প্রতিটি সৃষ্টিকে অস্তিত্বে এনেছেন। মানুষ বানাতে পারে কিন্তু বস্তু থেকে; একমাত্র আল্লাহ ‘কুন’ (হও) বললেই সৃষ্টি হয়।
📖
সূরা আয-যুমার (৩৯:৬২): «اللَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ» — “আল্লাহ সবকিছুর স্রষ্টা।”
১২
ٱلۡبَارِئ
আল-বারি’
বিবর্তনকারী
ব্যাখ্যা
আল-বারি’ মানে যিনি সৃষ্ট বস্তুকে সুনির্দিষ্ট আকার-আকৃতি দেন এবং একটিকে অপরটি থেকে আলাদা করেন। তিনি সৃষ্টির মধ্যে পার্থক্য ও বৈচিত্র্য এনেছেন। প্রতিটি মানুষ, প্রতিটি প্রাণী একে অপর থেকে ভিন্ন — এটি আল-বারি’র নিদর্শন।
📖
সূরা আল-হাশর (৫৯:২৪): «هُوَ اللَّهُ الْخَالِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ» — “তিনিই আল্লাহ, স্রষ্টা, বিবর্তনকারী, আকৃতিদাতা।”
১৩
ٱلۡمُصَوِّر
আল-মুসাওয়ির
আকৃতিদাতা
ব্যাখ্যা
আল-মুসাওয়ির মানে যিনি সৃষ্টিকে নির্দিষ্ট রূপ, চেহারা ও আকৃতি দান করেন। মায়ের গর্ভে শিশুকে তিনি ইচ্ছামতো রূপ দেন। পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষের মধ্যে কোনো দুজনের চেহারা হুবহু এক নয় — এটি তাঁরই কুদরত।
📖
সূরা আলে-ইমরান (৩:৬): «هُوَ الَّذِي يُصَوِّرُكُمْ فِي الْأَرْحَامِ كَيْفَ يَشَاءُ» — “তিনিই তোমাদের মায়ের গর্ভে ইচ্ছামতো আকৃতি দেন।”
১৪
ٱلۡغَفَّار
আল-গাফ্ফার
বারবার ক্ষমাকারী
ব্যাখ্যা
আল-গাফ্ফার মানে যিনি বারবার, বারংবার ক্ষমা করেন। পাপ যদি আসমান পর্যন্তও পৌঁছায়, তওবা করলে তিনি ক্ষমা করেন। ‘গফ্ফার’ শব্দে তীব্রতা (মুবালাগা) আছে — তিনি একবার নয়, বারবার ক্ষমা করার মালিক।
📖
সূরা ত্বা-হা (২০:৮২): «وَإِنِّي لَغَفَّارٌ لِّمَن تَابَ وَآمَنَ» — “আর যে তওবা করে ও ঈমান আনে, আমি অবশ্যই তার জন্য অত্যন্ত ক্ষমাশীল।”
১৫
ٱلۡقَهَّار
আল-কাহহার
সর্বজয়ী
ব্যাখ্যা
আল-কাহহার মানে যিনি সকল সৃষ্টিকে পরাভূত করেন এবং তাঁর ইচ্ছায় সবকিছু বশীভূত। সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ড তাঁর নিয়ন্ত্রণে। শিরক ও কুফরের শক্তিকে তিনি চূর্ণ করেন। তাঁর সামনে সব অহংকার ধূলিসাৎ হয়ে যায়।
📖
সূরা ইউসুফ (১২:৩৯): «أَأَرْبَابٌ مُّتَفَرِّقُونَ خَيْرٌ أَمِ اللَّهُ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُ» — “বহু বিচ্ছিন্ন প্রভু ভালো, নাকি এক সর্বজয়ী আল্লাহ?”
১৬
ٱلۡوَهَّاب
আল-ওয়াহহাব
মহান দাতা
ব্যাখ্যা
আল-ওয়াহহাব মানে যিনি বিনা প্রতিদানে, বিনা শর্তে অবিরাম দান করেন। তাঁর দান করতে কোনো উদ্দেশ্য থাকে না; তিনি দেন শুধু নিজের অনুগ্রহে। মেধা, সন্তান, সুস্বাস্থ্য, ঈমান — সবই তাঁর হিবা বা উপহার।
📖
সূরা আলে-ইমরান (৩:৮): «رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِن لَّدُنكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنتَ الْوَهَّابُ» — “হে আমাদের রব! হেদায়েতের পর আমাদের অন্তর বাঁকা করো না; তুমিই মহান দাতা।”
১৭
ٱلرَّزَّاق
আর-রাযযাক
রিযিকদাতা
ব্যাখ্যা
আর-রাযযাক মানে যিনি সমস্ত সৃষ্টির রিযিকের ব্যবস্থা করেন। শুধু খাদ্য নয়, জ্ঞান, শক্তি, সুযোগ — সবকিছুই তাঁর রিযিক। মায়ের গর্ভে থাকতেই তিনি শিশুর রিযিক নির্ধারণ করেন। কারো রিযিক আটকানোর ক্ষমতা কারো নেই।
📖
সূরা আয-যারিয়াত (৫১:৫৮): «إِنَّ اللَّهَ هُوَ الرَّزَّاقُ ذُو الْقُوَّةِ الْمَتِينُ» — “নিশ্চয়ই আল্লাহই রিযিকদাতা, মহাশক্তির অধিকারী।”
১৮
ٱلۡفَتَّاح
আল-ফাত্তাহ
মহাবিজয়ী উদ্ঘাটক
ব্যাখ্যা
আল-ফাত্তাহ মানে যিনি বন্ধ দরজা খুলে দেন, বিচার মীমাংসা করেন এবং সত্যের বিজয় দেন। যখন পথ বন্ধ মনে হয়, তখন তিনি অদৃশ্য পথ খুলে দেন। আল্লাহর রহমতের দরজা সর্বদা উন্মুক্ত।
📖
সূরা সাবা (৩৪:২৬): «قُلْ يَجْمَعُ بَيْنَنَا رَبُّنَا ثُمَّ يَفْتَحُ بَيْنَنَا بِالْحَقِّ وَهُوَ الْفَتَّاحُ الْعَلِيمُ» — “আমাদের রব আমাদের একত্রিত করবেন, তারপর সত্য দিয়ে মীমাংসা করবেন; তিনিই মহাবিজয়ী উদ্ঘাটক, সর্বজ্ঞ।”
১৯
ٱلۡعَلِيم
আল-আলিম
সর্বজ্ঞ
ব্যাখ্যা
আল-আলিম মানে যিনি সব কিছু জানেন — অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ; প্রকাশ্য ও গোপন; দৃশ্য ও অদৃশ্য। মনের গভীরতম চিন্তাও তাঁর কাছে লুকানো নেই। সমুদ্রের তলদেশের পাথরের নিচে যে কীটটি আছে, সেটিও তিনি জানেন।
📖
সূরা আল-বাকারা (২:২৯): «وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ» — “এবং তিনি সবকিছু সম্পর্কে সম্যক জ্ঞানী।”
২০
ٱلۡقَابِض
আল-কাবিদ
সংকোচকারী
ব্যাখ্যা
আল-কাবিদ মানে যিনি রিযিক সংকুচিত করেন বা আত্মাকে গ্রহণ করেন। মৃত্যুর সময় আত্মা সংগ্রহ, প্রয়োজনে রিযিক কমানো — সবই তাঁর সিদ্ধান্ত। এটি তাঁর প্রজ্ঞার অংশ, নিষ্ঠুরতা নয়।
📖
সূরা আল-বাকারা (২:২৪৫): «وَاللَّهُ يَقْبِضُ وَيَبْسُطُ» — “আল্লাহই সংকুচিত করেন এবং প্রসারিত করেন।”
২১
ٱلۡبَاسِط
আল-বাসিত
প্রসারণকারী
ব্যাখ্যা
আল-বাসিত মানে যিনি রিযিক ও রহমত প্রসারিত করেন। তিনি যাকে ইচ্ছা প্রাচুর্য দেন এবং বান্দার অন্তরকে প্রশান্ত ও প্রসারিত করেন। কাবিদ ও বাসিত একসাথে পাঠ করা হয় — সংকোচ ও প্রসার উভয়ই তাঁর নিয়ন্ত্রণে।
📖
সূরা আল-বাকারা (২:২৪৫): «وَاللَّهُ يَقْبِضُ وَيَبْسُطُ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ» — “আল্লাহই সংকুচিত করেন ও প্রসারিত করেন এবং তাঁরই কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।”
২২
ٱلۡخَافِض
আল-খাফিদ
অবনতকারী
ব্যাখ্যা
আল-খাফিদ মানে যিনি অত্যাচারী ও অহংকারীদের অবনত করেন এবং কাফেরদের লাঞ্ছিত করেন। ফেরাউন, নমরুদ — যারা অহংকার করেছে তাদের তিনি ধ্বংস করেছেন। এই নামটি তাঁর ন্যায়বিচারের প্রমাণ।
📖
সূরা আল-ওয়াকিয়া (৫৬:৩): «خَافِضَةٌ رَّافِعَةٌ» — “কিয়ামত কাউকে অবনত করবে, কাউকে উন্নত করবে।” (এই আয়াতে কর্মটি আল্লাহর।)
২৩
ٱلرَّافِع
আর-রাফি’
উন্নতকারী
ব্যাখ্যা
আর-রাফি’ মানে যিনি মুমিনদের মর্যাদা ও দর্জা উঁচু করেন এবং ঈসা আলাইহিস সালামকে আসমানে উঠিয়েছেন। ইলম ও ঈমান দিয়ে আল্লাহ বান্দার মর্যাদা বাড়ান। দুনিয়ায় যে অপমানিত সে আখিরাতে সম্মানিত হতে পারে।
📖
সূরা আল-মুজাদালা (৫৮:১১): «يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ» — “আল্লাহ তোমাদের মধ্যে যারা ঈমানদার এবং যাদের ইলম দেওয়া হয়েছে তাদের মর্যাদা উঁচু করেন।”
২৪
ٱلۡمُعِزّ
আল-মু’ইয্য
সম্মানদাতা
ব্যাখ্যা
আল-মু’ইয্য মানে যিনি যাকে ইচ্ছা সম্মান, মর্যাদা ও ইজ্জত দান করেন। আল্লাহর সম্মান পাওয়া প্রকৃত সম্মান; মানুষের কাছ থেকে যে সম্মান আসে তা ক্ষণস্থায়ী। ইসলাম গ্রহণ করে উমর (রা.) সম্মানিত হয়েছিলেন।
📖
সূরা আলে-ইমরান (৩:২৬): «تُعِزُّ مَن تَشَاءُ وَتُذِلُّ مَن تَشَاءُ» — “তুমি যাকে ইচ্ছা সম্মানিত কর এবং যাকে ইচ্ছা অপমানিত কর।”
২৫
ٱلۡمُذِلّ
আল-মুযিল্ল
অপমানকারী
ব্যাখ্যা
আল-মুযিল্ল মানে যিনি যাকে ইচ্ছা লাঞ্ছিত ও অপমানিত করেন। যারা আল্লাহকে অস্বীকার করে অহংকার করে, তাদের তিনি পতন ঘটান। এই গুণ তাঁর ন্যায়বিচারের অংশ — পাপীর শাস্তি হিসেবে।
📖
সূরা আলে-ইমরান (৩:২৬): «بِيَدِكَ الْخَيْرُ إِنَّكَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ» — “কল্যাণ তোমারই হাতে; নিশ্চয়ই তুমি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।”
২৬
ٱلسَّمِيع
আস-সামি’
সর্বশ্রোতা
ব্যাখ্যা
আস-সামি’ মানে যিনি সব শোনেন — দুআ, কান্না, নিচু কণ্ঠস্বর, এমনকি মনের আওয়াজও। রাত্রির অন্ধকারে একা বান্দার ফরিয়াদ তিনি শোনেন। মায়ের যে দুআ মুখ দিয়ে বেরোয় না, হৃদয়ের কোণে যা থাকে, তাও তাঁর কাছে স্পষ্ট।
📖
সূরা আল-বাকারা (২:২২৭): «فَإِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ» — “নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।”
২৭
ٱلۡبَصِير
আল-বাসির
সর্বদ্রষ্টা
ব্যাখ্যা
আল-বাসির মানে যিনি সব দেখেন — অন্ধকার রাতের কালো পাথরের উপর কালো পিঁপড়ার গতিবিধিও। তাঁর দৃষ্টি থেকে কিছুই লুকানো নয়। মানুষ লুকিয়ে পাপ করে, কিন্তু আল্লাহ সব দেখছেন — এই বিশ্বাসই তাকওয়ার মূল।
📖
সূরা আল-হজ (২২:৭৫): «إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ بَصِيرٌ» — “নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।”
২৮
ٱلۡحَكَم
আল-হাকাম
চূড়ান্ত বিচারক
ব্যাখ্যা
আল-হাকাম মানে চূড়ান্ত ও পরম বিচারক। তাঁর রায়ের বিরুদ্ধে আপিল নেই, তাঁর সিদ্ধান্ত কেউ পরিবর্তন করতে পারে না। কিয়ামতের দিন সব বিবাদের চূড়ান্ত ফয়সালা তিনিই করবেন।
📖
সূরা আল-আন’আম (৬:১১৪): «أَفَغَيْرَ اللَّهِ أَبْتَغِي حَكَمًا» — “আমি কি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে বিচারক হিসেবে অন্বেষণ করব?”
২৯
ٱلۡعَدۡل
আল-আদল
পরম ন্যায়বান
ব্যাখ্যা
আল-আদল মানে যিনি সম্পূর্ণ ন্যায়পরায়ণ। তিনি কারো উপর জুলুম করেন না। কিয়ামতের দিন একটি অণু পরিমাণ পাপও বা পুণ্যও নষ্ট হবে না। তাঁর বিচারে কোনো পক্ষপাত নেই; গরিব-ধনী সবাই সমান।
📖
সূরা আন-নিসা (৪:৪০): «إِنَّ اللَّهَ لَا يَظْلِمُ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ» — “নিশ্চয়ই আল্লাহ অণু পরিমাণও জুলুম করেন না।”
৩০
ٱللَّطِيف
আল-লাতিফ
সূক্ষ্মদর্শী, কোমলতম
ব্যাখ্যা
আল-লাতিফ মানে যিনি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও কোমল উপায়ে বান্দার কল্যাণ করেন, অনেক সময় বান্দা বুঝতেও পারে না। ইউসুফ (আ.)-এর গল্প আল-লাতিফের সর্বোত্তম উদাহরণ — কূপ থেকে মিশরের মন্ত্রী হওয়া, সবটাই আল্লাহর সূক্ষ্ম পরিকল্পনা।
📖
সূরা আল-আন’আম (৬:১০৩): «لَّا تُدْرِكُهُ الْأَبْصَارُ وَهُوَ يُدْرِكُ الْأَبْصَارَ وَهُوَ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ» — “দৃষ্টিসমূহ তাঁকে আয়ত্ত করতে পারে না, তিনি সব দৃষ্টি আয়ত্ত করেন; তিনি সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক অবহিত।”
৩১
ٱلۡخَبِير
আল-খাবির
সম্যক অবহিত
ব্যাখ্যা
আল-খাবির মানে যিনি সবকিছুর অভ্যন্তরীণ সত্য ও বাস্তবতা সম্পর্কে পূর্ণ অবহিত। ‘আলিম’ জানেন বাহ্যিক বিষয়, ‘খাবির’ জানেন ভেতরের লুকানো বাস্তবতা। মানুষের অন্তরের গোপন নিয়ত, পরিকল্পনা — সবই তাঁর কাছে প্রকাশিত।
📖
সূরা আল-মুলক (৬৭:১৪): «أَلَا يَعْلَمُ مَنْ خَلَقَ وَهُوَ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ» — “যিনি সৃষ্টি করেছেন তিনি কি জানেন না? তিনি সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক অবহিত।”
৩২
ٱلۡحَلِيم
আল-হালিম
পরম সহনশীল
ব্যাখ্যা
আল-হালিম মানে যিনি বান্দার পাপ ও অবাধ্যতা সত্ত্বেও তাৎক্ষণিক শাস্তি দেন না, ধৈর্যধারণ করেন এবং তওবার সুযোগ দেন। এটি দুর্বলতা নয় বরং মহানুভবতা। তাঁর হিলম বা সহনশীলতা অপরিসীম।
📖
সূরা আল-বাকারা (২:২২৫): «وَاللَّهُ غَفُورٌ حَلِيمٌ» — “আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম সহনশীল।”
৩৩
ٱلۡعَظِيم
আল-আযিম
মহামহিম
ব্যাখ্যা
আল-আযিম মানে সর্বোচ্চ মহিমাময়, যাঁর মহত্ত্ব সীমাহীন ও অবর্ণনীয়। আয়াতুল কুরসিতে এই নামটি এসেছে। তাঁর সিংহাসন (কুরসি) আসমান ও জমিন পরিব্যাপ্ত — এর চেয়ে বড় মহত্ত্বের ধারণা কেউ কল্পনাও করতে পারে না।
📖
সূরা আল-বাকারা (২:২৫৫): «وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ» — “আসমান ও জমিনের রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না; তিনিই সর্বোচ্চ, মহামহিম।”
৩৪
ٱلۡغَفُور
আল-গাফুর
মহা ক্ষমাশীল
ব্যাখ্যা
আল-গাফুর মানে যিনি পাপকে সম্পূর্ণরূপে আড়াল করেন এবং ক্ষমা করেন। ‘গাফারা’ মূলে এর অর্থ ঢেকে দেওয়া। গাফুর ও গাফ্ফারের পার্থক্য: গাফ্ফার বারবার ক্ষমার উপর জোর দেয়, গাফুর গভীরতার উপর।
📖
সূরা আয-যুমার (৩৯:৫৩): «إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ» — “নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত পাপ ক্ষমা করেন; তিনি মহা ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”
৩৫
ٱلشَّكُور
আশ-শাকুর
মহা কৃতজ্ঞতা স্বীকারকারী
ব্যাখ্যা
আশ-শাকুর মানে যিনি বান্দার ক্ষুদ্রতম নেক আমলের প্রতিও কৃতজ্ঞতাস্বরূপ বহু গুণ পুরস্কার দেন। একটি নেক কাজে ন্যূনতম দশ গুণ সওয়াব দেওয়া তাঁর শুকরের প্রমাণ। তিনি বান্দার ছোট আমলও বড় করে স্বীকার করেন।
📖
সূরা ফাতির (৩৫:৩০): «إِنَّهُ غَفُورٌ شَكُورٌ» — “নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল, মহা কৃতজ্ঞতা স্বীকারকারী।”
৩৬
ٱلۡعَلِىّ
আল-আলিয়্য
সর্বোচ্চ
ব্যাখ্যা
আল-আলিয়্য মানে যিনি সকলের উপরে — সত্তায়, গুণে ও মর্যাদায়। তাঁর উচ্চতা দৈহিক নয়, বরং তাঁর মহত্ত্ব ও গুণাবলিতে তিনি সর্বোচ্চ। আরশের উপরে তাঁর অবস্থান তাঁর সর্বোচ্চতার প্রমাণ।
📖
সূরা আল-বাকারা (২:২৫৫): «وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ» — “তিনিই সর্বোচ্চ, মহামহিম।”
৩৭
ٱلۡكَبِير
আল-কাবির
মহান
ব্যাখ্যা
আল-কাবির মানে যিনি সকলের চেয়ে বড়। মানবিক ধারণায় যা ‘বড়’ তার সাথে আল্লাহর কিবর বা মহত্ত্বের কোনো তুলনা নেই। তাঁর মহত্ত্বের পরিধি বোঝার সাধ্য কারো নেই। আল্লাহু আকবার — এই তাকবিরে এই নামের প্রতিফলন।
📖
সূরা আর-রাদ (১৩:৯): «الْكَبِيرُ الْمُتَعَالِ» — “তিনি মহান, সর্বোচ্চ।”
৩৮
ٱلۡحَفِيظ
আল-হাফিয
মহাসংরক্ষক
ব্যাখ্যা
আল-হাফিয মানে যিনি সমগ্র সৃষ্টিকে রক্ষা করেন, বান্দার সব কর্ম সংরক্ষণ করেন এবং কুরআন সংরক্ষণ করেন। কিয়ামত পর্যন্ত কোনো মুমিন আল্লাহর হেফাজতে থাকে। ফেরেশতারা মানুষের পাহারাদার হিসেবে নিয়োজিত।
📖
সূরা হুদ (১১:৫৭): «إِنَّ رَبِّي عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ حَفِيظٌ» — “নিশ্চয়ই আমার রব সবকিছুর সংরক্ষক।”
৩৯
ٱلۡمُقِيت
আল-মুকিত
পালনকর্তা-পোষক
ব্যাখ্যা
আল-মুকিত মানে যিনি সকল সৃষ্টির পুষ্টি ও শক্তির ব্যবস্থা করেন এবং সবকিছুর উপর সাক্ষী ও ক্ষমতাবান। ‘কুত’ মানে খাদ্য বা পুষ্টি — তিনি প্রতিটি জীবের জন্য প্রয়োজনীয় খোরাক সরবরাহ করেন।
📖
সূরা আন-নিসা (৪:৮৫): «وَكَانَ اللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ مُّقِيتًا» — “আল্লাহ সবকিছুর উপর পূর্ণ ক্ষমতাবান পালনকর্তা।”
৪০
ٱلۡحَسِيب
আল-হাসিব
হিসাব গ্রহণকারী
ব্যাখ্যা
আল-হাসিব মানে যিনি সবকিছুর হিসাব রাখেন এবং যথাযথ প্রতিদান দেন। কিয়ামতের দিন তিনি প্রতিটি কাজ, প্রতিটি কথা, এমনকি নিয়তের হিসাবও নেবেন। বান্দার জন্য তিনিই যথেষ্ট হিসাবকারী।
📖
সূরা আন-নিসা (৪:৬): «وَكَفَىٰ بِاللَّهِ حَسِيبًا» — “আর হিসাব গ্রহণে আল্লাহই যথেষ্ট।”
৪১
ٱلۡجَلِيل
আল-জালিল
মহাপ্রতাপশালী
ব্যাখ্যা
আল-জালিল মানে যিনি তাঁর গুণাবলি ও মহত্ত্বে সর্বোচ্চ প্রতাপশালী। ‘জালালুল্লাহ’ বলতে আল্লাহর সেই শ্রেষ্ঠত্বকে বোঝায় যা মনে ভয় ও বিনয় জন্ম দেয়। এই নামটি সাধারণত আল-জামিলের (সৌন্দর্য) বিপরীতে ব্যবহৃত হয়।
📖
সূরা আর-রাহমান (৫৫:২৭): «وَيَبْقَىٰ وَجْهُ رَبِّكَ ذُو الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ» — “এবং তোমার রবের সত্তা স্থায়ী থাকবে, যিনি মহাপ্রতাপ ও মহাসম্মানের অধিকারী।”
৪২
ٱلۡكَرِيم
আল-কারিম
মহাউদার
ব্যাখ্যা
আল-কারিম মানে যিনি অতিশয় উদার ও মহানুভব। তাঁর দান কারো চাওয়ার উপর নির্ভর করে না; তিনি বিনা প্রতিদানে দেন। মানুষ বারবার পাপ করলেও তিনি তওবার দরজা বন্ধ করেন না — এটাই তাঁর কারামাত।
📖
সূরা আল-ইনফিতার (৮২:৬): «يَا أَيُّهَا الْإِنسَانُ مَا غَرَّكَ بِرَبِّكَ الْكَرِيمِ» — “হে মানুষ! কিসে তোমাকে তোমার মহাউদার রব সম্পর্কে প্রতারিত করল?”
৪৩
ٱلرَّقِيب
আর-রাকিব
সর্বদ্রষ্টা পর্যবেক্ষক
ব্যাখ্যা
আর-রাকিব মানে যিনি সর্বক্ষণ পর্যবেক্ষণ করেন, কোনো কিছুই তাঁর নজর এড়ায় না। ‘ইহসান’ সাধনার মূলে এই বিশ্বাস: “এমনভাবে ইবাদত কর যেন তুমি আল্লাহকে দেখছ।” তিনি সর্বদা রাকিব।
📖
সূরা আন-নিসা (৪:১): «إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا» — “নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের উপর সর্বদ্রষ্টা পর্যবেক্ষক।”
৪৪
ٱلۡمُجِيب
আল-মুজিব
দুআ কবুলকারী
ব্যাখ্যা
আল-মুজিব মানে যিনি বান্দার ডাকে সাড়া দেন। কোনো দুআ তাঁর কাছে হারিয়ে যায় না। হয়তো তিনি সেই মুহূর্তে দেন, হয়তো পরে দেন, অথবা বিপদ সরিয়ে দেন, অথবা আখিরাতের জন্য সঞ্চয় করেন — এই তিনটির যেকোনো একটি দেন।
📖
সূরা হুদ (১১:৬১): «إِنَّ رَبِّي قَرِيبٌ مُّجِيبٌ» — “নিশ্চয়ই আমার রব কাছে আছেন, দুআ কবুলকারী।”
৪৫
ٱلۡوَٰسِع
আল-ওয়াসি’
সর্বব্যাপী
ব্যাখ্যা
আল-ওয়াসি’ মানে যাঁর জ্ঞান, রহমত ও ক্ষমা সর্বব্যাপী এবং সীমাহীন। তাঁর রহমত সবকিছুকে ঘিরে আছে। যতই পাপ হোক, তাঁর রহমত তার চেয়ে বড়। তাঁর ভাণ্ডার কোনোদিন নিঃশেষ হয় না।
📖
সূরা আল-বাকারা (২:২৬৮): «وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ» — “আল্লাহ সর্বব্যাপী, সর্বজ্ঞ।”
৪৬
ٱلۡحَكِيم
আল-হাকিম
পরম প্রজ্ঞাময়
ব্যাখ্যা
আল-হাকিম মানে যাঁর প্রতিটি সিদ্ধান্ত ও কাজ পরিপূর্ণ প্রজ্ঞার উপর ভিত্তিশীল। কুরআনে এই নামটি সবচেয়ে বেশি এসেছে (৯৭ বার)। যা আমাদের কাছে ক্ষতিকর মনে হয়, তাতেও তাঁর গভীর হিকমত থাকে।
📖
সূরা আল-বাকারা (২:৩২): «إِنَّكَ أَنتَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ» — “নিশ্চয়ই তুমিই সর্বজ্ঞ, পরম প্রজ্ঞাময়।”
৪৭
ٱلۡوَدُود
আল-ওয়াদুদ
পরম প্রেমময়
ব্যাখ্যা
আল-ওয়াদুদ মানে যিনি তাঁর মুমিন বান্দাদের ভালোবাসেন এবং বান্দারাও তাঁকে ভালোবাসে। এটি দুমুখী ভালোবাসা। তিনি তাওবাকারীর প্রতি বিশেষভাবে মহব্বত দেখান। এই নামটি আল্লাহর ভালোবাসার গভীরতম প্রকাশ।
📖
সূরা হুদ (১১:৯০): «إِنَّ رَبِّي رَحِيمٌ وَدُودٌ» — “নিশ্চয়ই আমার রব পরম দয়ালু, পরম প্রেমময়।”
৪৮
ٱلۡمَجِيد
আল-মাজিদ
মহাগৌরবান্বিত
ব্যাখ্যা
আল-মাজিদ মানে যাঁর গৌরব ও শ্রেষ্ঠত্ব অসীম। ‘মজদ’ শব্দের অর্থ পরিপূর্ণ সম্মান ও মহিমা। তাশাহহুদে ইব্রাহিমি দরুদে “ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ” বলা হয়।
📖
সূরা হুদ (১১:৭৩): «إِنَّهُ حَمِيدٌ مَّجِيدٌ» — “নিশ্চয়ই তিনি প্রশংসার যোগ্য, মহাগৌরবান্বিত।”
৪৯
ٱلۡبَاعِث
আল-বা’ইস
পুনরুত্থানকারী
ব্যাখ্যা
আল-বা’ইস মানে যিনি মৃতদের পুনরুত্থিত করবেন এবং নবী-রাসূলদের পাঠিয়েছেন। ‘বা’আসা’ মানে পাঠানো বা জাগিয়ে তোলা। কিয়ামতের দিন তিনি সকল মৃতকে হিসাবের জন্য উঠিয়ে দেবেন।
📖
সূরা আল-বাকারা (২:৫৬): «ثُمَّ بَعَثْنَاكُم مِّن بَعْدِ مَوْتِكُمْ» — “অতঃপর আমি তোমাদের মৃত্যুর পরে পুনরুত্থিত করলাম।”
৫০
ٱلشَّهِيد
আশ-শাহিদ
সর্বসাক্ষী
ব্যাখ্যা
আশ-শাহিদ মানে যিনি সর্বকিছুর সাক্ষী। কিয়ামতের দিন নবীরা তাদের উম্মতের ব্যাপারে সাক্ষ্য দেবেন, কিন্তু আল্লাহ সবার উপরে চূড়ান্ত সাক্ষী। কোনো কাজ তাঁর সাক্ষ্য থেকে বাদ পড়বে না।
📖
সূরা আল-মায়িদা (৫:১১৭): «وَأَنتَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ» — “তুমি সবকিছুর উপর সর্বসাক্ষী।”
৫১
ٱلۡحَقّ
আল-হাক্ক
পরম সত্য
ব্যাখ্যা
আল-হাক্ক মানে যিনি নিজেই পরম সত্য এবং তাঁর অস্তিত্ব, প্রতিশ্রুতি ও বাণী সম্পূর্ণ সত্য। তাঁকে বাদ দিয়ে যা কিছু উপাসনা করা হয় সব মিথ্যা। রাসূলুল্লাহ ﷺ রাতে উঠে বলতেন: “আল্লাহুম্মা আনতাল-হাক্ক।”
📖
সূরা আল-হজ (২২:৬২): «ذَٰلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَقُّ» — “এটা এজন্য যে আল্লাহই পরম সত্য।”
৫২
ٱلۡوَكِيل
আল-ওয়াকিল
পরম অভিভাবক
ব্যাখ্যা
আল-ওয়াকিল মানে যিনি বান্দার সব ব্যাপার পরিচালনার দায়িত্ব নেন। “হাসবুনাল্লাহ ওয়া নিয়মাল ওয়াকিল” — “আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট, কত উত্তম অভিভাবক!” ইব্রাহিম (আ.) আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার আগে এই কালিমা বলেছিলেন।
📖
সূরা আলে-ইমরান (৩:১৭৩): «حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ» — “আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কত উত্তম অভিভাবক।”
৫৩
ٱلۡقَوِىّ
আল-কাওয়িয়্য
মহাশক্তিধর
ব্যাখ্যা
আল-কাওয়িয়্য মানে যাঁর শক্তি অসীম ও অটুট। কোনো শক্তিই তাঁর শক্তির সাথে তুলনীয় নয়। পারমাণবিক অস্ত্র, প্রাকৃতিক শক্তি — সব কিছুর চেয়ে তাঁর কুদরত অনেক ঊর্ধ্বে।
📖
সূরা আল-হজ (২২:৭৪): «إِنَّ اللَّهَ لَقَوِيٌّ عَزِيزٌ» — “নিশ্চয়ই আল্লাহ মহাশক্তিধর, মহাশক্তিমান।”
৫৪
ٱلۡمَتِين
আল-মাতিন
দৃঢ়-অটল
ব্যাখ্যা
আল-মাতিন মানে যাঁর শক্তি অপরিবর্তনীয় ও দৃঢ় — কোনো প্রতিরোধ বা চাপে তাঁর শক্তি কমে না। ক্লান্তি বা দুর্বলতার কোনো সম্ভাবনা তাঁর মধ্যে নেই। তাঁর ইচ্ছাকে কেউ বাধা দিতে পারে না।
📖
সূরা আয-যারিয়াত (৫১:৫৮): «إِنَّ اللَّهَ هُوَ الرَّزَّاقُ ذُو الْقُوَّةِ الْمَتِينُ» — “নিশ্চয়ই আল্লাহই রিযিকদাতা, শক্তির অধিকারী, দৃঢ়-অটল।”
৫৫
ٱلۡوَلِىّ
আল-ওয়ালিয়্য
পরম বন্ধু-অভিভাবক
ব্যাখ্যা
আল-ওয়ালিয়্য মানে মুমিনদের পরম বন্ধু, সাহায্যকারী ও অভিভাবক। তিনি মুমিনদের অন্ধকার থেকে আলোতে নিয়ে আসেন। যে আল্লাহকে বন্ধু বানায়, তার আর কোনো শত্রুর ভয় নেই।
📖
সূরা আশ-শুরা (৪২:২৮): «وَهُوَ الْوَلِيُّ الْحَمِيدُ» — “তিনিই পরম বন্ধু-অভিভাবক, প্রশংসার যোগ্য।”
৫৬
ٱلۡحَمِيد
আল-হামিদ
প্রশংসার যোগ্য
ব্যাখ্যা
আল-হামিদ মানে যিনি সকল প্রশংসার যোগ্য — তাঁর সৃষ্টি, নিয়ামত ও ন্যায়বিচারের কারণে। ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলা হলো তাঁকে হামিদ বলে স্বীকার করা। প্রতিটি নিশ্বাসে তাঁর প্রশংসা করা উচিত।
📖
সূরা ইব্রাহিম (১৪:১): «صِرَاطِ الْعَزِيزِ الْحَمِيدِ» — “মহাশক্তিমান, প্রশংসার যোগ্যের পথে।”
৫৭
ٱلۡمُحۡصِى
আল-মুহসি
সর্বগণনাকারী
ব্যাখ্যা
আল-মুহসি মানে যিনি সবকিছু গণনা করেন ও পূর্ণ হিসাব রাখেন। সমুদ্রের বালুকণা, বৃষ্টির ফোঁটা, প্রতিটি মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাস — সব তাঁর গণনায় আছে। কিয়ামতে এই গণনার ভিত্তিতে হিসাব হবে।
📖
সূরা মারইয়াম (১৯:৯৪): «لَّقَدْ أَحْصَاهُمْ وَعَدَّهُمْ عَدًّا» — “নিশ্চয়ই তিনি তাদের গণনা করেছেন এবং পুরোপুরি হিসাব করেছেন।”
৫৮
ٱلۡمُبۡدِئ
আল-মুবদি’
আদি সৃষ্টিকর্তা
ব্যাখ্যা
আল-মুবদি’ মানে যিনি প্রথমবারের মতো, কোনো পূর্ব নমুনা ছাড়াই সৃষ্টি করেছেন। মহাবিশ্বের প্রথম সৃষ্টি তাঁরই কাজ। মানুষ যা তৈরি করে তা পূর্ব বিদ্যমান বস্তু থেকে; কিন্তু আল্লাহ শূন্য থেকে শুরু করেছেন।
📖
সূরা আল-বুরুজ (৮৫:১৩): «إِنَّهُ هُوَ يُبْدِئُ وَيُعِيدُ» — “নিশ্চয়ই তিনিই প্রথম সৃষ্টি করেন এবং পুনরায় সৃষ্টি করবেন।”
৫৯
ٱلۡمُعِيد
আল-মু’ইদ
পুনঃসৃষ্টিকর্তা
ব্যাখ্যা
আল-মু’ইদ মানে যিনি মৃত্যুর পরে সৃষ্টিকে পুনরায় ফিরিয়ে আনবেন। যিনি প্রথমবার সৃষ্টি করতে পেরেছেন, তাঁর জন্য পুনরায় সৃষ্টি করা আরো সহজ। কিয়ামতে পুনরুত্থান তাঁর এই গুণের বাস্তবায়ন।
📖
সূরা আল-বুরুজ (৮৫:১৩): «إِنَّهُ هُوَ يُبْدِئُ وَيُعِيدُ» — “তিনিই প্রথম সৃষ্টি করেন এবং পুনরায় ফিরিয়ে আনবেন।”
৬০
ٱلۡمُحۡيِى
আল-মুহইয়ি
জীবনদাতা
ব্যাখ্যা
আল-মুহইয়ি মানে যিনি জীবন দান করেন — শুক্রাণু থেকে মানুষ, বীজ থেকে বৃক্ষ, মৃত হৃদয়ে ঈমানের আলো। কিয়ামতের দিন মৃতকে পুনরুজ্জীবিত করাও তাঁর ‘ইহইয়া’ গুণের প্রকাশ।
📖
সূরা আল-হজ (২২:৬): «وَأَنَّهُ يُحْيِي الْمَوْتَىٰ» — “এবং তিনিই মৃতকে জীবন দেন।”
৬১
ٱلۡمُمِيت
আল-মুমিত
মৃত্যুদাতা
ব্যাখ্যা
আল-মুমিত মানে যিনি মৃত্যু ঘটান। মৃত্যু কোনো দুর্ঘটনা নয়, এটি আল্লাহর সিদ্ধান্ত। নির্ধারিত সময়ে প্রতিটি প্রাণীর মৃত্যু তাঁরই ইচ্ছায় হয়। মুমিন ও মুহিয়্যি এই দুটি নাম একসাথে পড়া হয়।
📖
সূরা আলে-ইমরান (৩:১৫৬): «وَاللَّهُ يُحْيِي وَيُمِيتُ» — “আল্লাহই জীবিত করেন এবং মৃত্যু দেন।”
৬২
ٱلۡحَىّ
আল-হাইয়্য
চিরঞ্জীব
ব্যাখ্যা
আল-হাইয়্য মানে যিনি চিরজীবী — মৃত্যু, ঘুম বা ক্লান্তি যার কাছে ঘেঁষতে পারে না। তাঁর জীবন কোনো শর্তের উপর নির্ভরশীল নয়। আয়াতুল কুরসিতে ‘আল-হাইয়্যুল কাইয়্যুম’ — এই দুটি নাম আল্লাহর সত্তার মূল বিশেষত্ব।
📖
সূরা আল-বাকারা (২:২৫৫): «اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ» — “আল্লাহ — তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই; তিনি চিরঞ্জীব, সর্বস্থায়ী।”
৬৩
ٱلۡقَيُّوم
আল-কাইয়্যুম
স্বনির্ভর-সর্বধারক
ব্যাখ্যা
আল-কাইয়্যুম মানে যিনি নিজে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর এবং সমগ্র সৃষ্টির অস্তিত্ব ধারণ করেন। তিনি কারো উপর নির্ভরশীল নন, কিন্তু সকলে তাঁর উপর নির্ভরশীল। এই নামটি আল্লাহর সবচেয়ে মহান নামের (ইসমে আযম) অংশ।
📖
সূরা আলে-ইমরান (৩:২): «اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ» — “আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই; তিনি চিরঞ্জীব, স্বনির্ভর-সর্বধারক।”
৬৪
ٱلۡوَاجِد
আল-ওয়াজিদ
সর্বপ্রাপ্ত
ব্যাখ্যা
আল-ওয়াজিদ মানে যিনি সব কিছু পান ও যাঁর কাছে সব কিছু আছে। কোনো কিছুর অভাব তাঁর নেই। বান্দার যা প্রয়োজন তা তিনি দিতে পারেন কারণ সব তাঁরই কাছে আছে। তিনি সীমাহীন সম্পদের মালিক।
📖
সূরা ত্বা-হা (২০:৯৮): «لَّا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ وَسِعَ كُلَّ شَيْءٍ عِلْمًا» — “তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই; তাঁর জ্ঞান সব কিছুকে পরিবেষ্টন করেছে।”
৬৫
ٱلۡمَاجِد
আল-মাজিদ
মহাশ্রেষ্ঠ
ব্যাখ্যা
আল-মাজিদ মানে যাঁর কর্ম, গুণ ও সত্তা সর্বোচ্চ সম্মানের। ‘মাজিদ’ বলতে যাঁর সম্মান পূর্ণ এবং কাজ মহৎ বোঝায়। এটি ‘মাজিদ’ (৪৮)-এর মতোই কিন্তু সামান্য ভিন্ন মাত্রায় ব্যাখ্যা করা হয়।
📖
সূরা আল-বুরুজ (৮৫:১৫): «ذُو الْعَرْشِ الْمَجِيدُ» — “আরশের মালিক, মহাশ্রেষ্ঠ।”
৬৬
ٱلۡوَاحِد
আল-ওয়াহিদ
একক
ব্যাখ্যা
আল-ওয়াহিদ মানে যিনি একক, অংশীদারহীন। তাঁর উলুহিয়্যাতে (উপাসনায়) কেউ অংশীদার নয়। শিরক হলো এই একত্বকে অস্বীকার করা। তাওহিদের মূল ভিত্তি এই নামের উপর।
📖
সূরা আর-রাদ (১৩:১৬): «قُلِ اللَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُ» — “বল: আল্লাহ সবকিছুর স্রষ্টা এবং তিনি একক, সর্বজয়ী।”
৬৭
ٱلۡأَحَد
আল-আহাদ
অদ্বিতীয়
ব্যাখ্যা
আল-আহাদ মানে যিনি সম্পূর্ণ অদ্বিতীয় ও অতুলনীয়। ‘ওয়াহিদ’ এক অর্থে ব্যবহৃত হয়, ‘আহাদ’ আরো গভীরভাবে একত্বকে বোঝায় — তাঁর মতো কিছুই নেই, হতে পারে না। সূরা ইখলাস এই নামকে কেন্দ্র করে।
📖
সূরা আল-ইখলাস (১১২:১): «قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ» — “বল: তিনিই আল্লাহ, অদ্বিতীয়।”
৬৮
ٱلصَّمَد
আস-সামাদ
অমুখাপেক্ষী চিরস্থায়ী
ব্যাখ্যা
আস-সামাদ মানে যিনি সকলের মুখাপেক্ষী হওয়ার লক্ষ্য, নিজে কারো মুখাপেক্ষী নন। সবাই তাঁর কাছে প্রয়োজনে যায়, কিন্তু তিনি কারো কাছে যান না। তিনি পানাহার থেকে মুক্ত, সন্তান ও পিতা-মাতা ছাড়া।
📖
সূরা আল-ইখলাস (১১২:২): «اللَّهُ الصَّمَدُ» — “আল্লাহ অমুখাপেক্ষী চিরস্থায়ী।”
৬৯
ٱلۡقَادِر
আল-কাদির
সর্বক্ষমতাবান
ব্যাখ্যা
আল-কাদির মানে যিনি যা ইচ্ছা করতে সক্ষম, কোনো কিছুই তাঁর ক্ষমতার বাইরে নয়। “কুন ফাইয়াকুন” — তিনি বললেই হয়ে যায়। তাঁর শক্তি ক্লান্তিহীন ও সীমাহীন।
📖
সূরা আল-বাকারা (২:২০): «إِنَّ اللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ» — “নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছুর উপর সর্বক্ষমতাবান।”
৭০
ٱلۡمُقۡتَدِر
আল-মুকতাদির
মহাপরাক্রমশালী
ব্যাখ্যা
আল-মুকতাদির মানে যিনি সবকিছু পূর্ণভাবে করার ক্ষমতা রাখেন এবং তাঁর শক্তি সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত। ‘কাদির’ ও ‘মুকতাদির’ প্রায় একই, তবে মুকতাদিরে সক্রিয়তা ও কর্তৃত্বের বিশেষ জোর আছে।
📖
সূরা আল-কামার (৫৪:৪২): «فَأَخَذْنَاهُمْ أَخْذَ عَزِيزٍ مُّقْتَدِرٍ» — “আমি তাদের পাকড়াও করলাম মহাশক্তিমান, মহাপরাক্রমশালীর পাকড়াওয়ে।”
৭১
ٱلۡمُقَدِّم
আল-মুকাদ্দিম
অগ্রবর্তীকারী
ব্যাখ্যা
আল-মুকাদ্দিম মানে যিনি যাকে ইচ্ছা এগিয়ে দেন বা অগ্রাধিকার দেন। তিনি মুমিনদের পুরস্কৃত করে সামনে এগিয়ে রাখেন এবং তাঁর পরিকল্পনায় যা আগে হওয়া দরকার তা করেন।
📖
সূরা নূহ (৭১:৪): «إِنَّ أَجَلَ اللَّهِ إِذَا جَاءَ لَا يُؤَخَّرُ» — “নিশ্চয়ই আল্লাহর নির্ধারিত সময় এলে তা বিলম্বিত হয় না।” (আল্লাহ সময় নির্ধারণে অগ্রগামী।)
৭২
ٱلۡمُؤَخِّر
আল-মু’আখ্খির
বিলম্বকারী
ব্যাখ্যা
আল-মু’আখ্খির মানে যিনি যাকে ইচ্ছা পিছিয়ে দেন বা বিলম্ব করেন। তিনি পাপীর শাস্তি তাৎক্ষণিক না দিয়ে বিলম্ব করেন যাতে তওবার সুযোগ থাকে। মুকাদ্দিম ও মু’আখ্খির — দুটি বিপরীত নাম, উভয়ই তাঁর পরিকল্পনার অংশ।
📖
সূরা ইব্রাহিম (১৪:৪২): «إِنَّمَا يُؤَخِّرُهُمْ لِيَوْمٍ تَشْخَصُ فِيهِ الْأَبْصَارُ» — “তিনি তাদের বিলম্বিত করছেন সেই দিনের জন্য যেদিন চোখগুলো স্থির হয়ে যাবে।”
৭৩
ٱلۡأَوَّل
আল-আওয়াল
সর্বপ্রথম
ব্যাখ্যা
আল-আওয়াল মানে যিনি সর্বপ্রথম — তাঁর আগে কেউ নেই। সৃষ্টির আগেও তিনি ছিলেন। “তিনি প্রথম, যাঁর পূর্বে কিছু নেই।” তাঁর অস্তিত্ব অনাদি, কোনো সূচনাবিন্দু নেই।
📖
সূরা আল-হাদিদ (৫৭:৩): «هُوَ الْأَوَّلُ وَالْآخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ» — “তিনিই প্রথম, তিনিই শেষ, তিনিই প্রকাশ্য, তিনিই গোপন।”
৭৪
ٱلۡأَخِر
আল-আখির
সর্বশেষ
ব্যাখ্যা
আল-আখির মানে যিনি সর্বশেষ — তাঁর পরে কেউ নেই। সব কিছু ধ্বংস হলেও তিনি থাকবেন। “সবকিছু ধ্বংস হবে, শুধু তাঁর সত্তা থাকবে।” তাঁর অস্তিত্বের কোনো শেষ নেই।
📖
সূরা আল-হাদিদ (৫৭:৩): «هُوَ الْأَوَّلُ وَالْآخِرُ» — “তিনিই প্রথম এবং তিনিই সর্বশেষ।”
৭৫
ٱلظَّاهِر
আয-যাহির
প্রকাশ্য
ব্যাখ্যা
আয-যাহির মানে যিনি তাঁর নিদর্শন, সৃষ্টি ও গুণাবলি দ্বারা প্রকাশিত। প্রকৃতির প্রতিটি ঘটনায় তাঁর অস্তিত্বের প্রমাণ স্পষ্ট। তিনি অদৃশ্য হলেও তাঁর নিদর্শন সর্বদা দৃশ্যমান।
📖
সূরা আল-হাদিদ (৫৭:৩): «وَالظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ» — “তিনি প্রকাশ্য ও গোপন এবং তিনি সবকিছু জানেন।”
৭৬
ٱلۡبَاطِن
আল-বাতিন
অভ্যন্তরীণ গোপন
ব্যাখ্যা
আল-বাতিন মানে যিনি সব কিছুর অভ্যন্তরে বিদ্যমান এবং সব গোপন বিষয় সম্পর্কে অবহিত। তাঁর সত্তা মানুষের দৃষ্টি ও বোধের বাইরে। তিনি প্রতিটি পরমাণুর ভেতরের বাস্তবতা জানেন।
📖
সূরা আল-হাদিদ (৫৭:৩): «هُوَ الْأَوَّلُ وَالْآخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ» — “তিনিই প্রথম, শেষ, প্রকাশ্য ও গোপন।”
৭৭
ٱلۡوَالِى
আল-ওয়ালি
পরিচালক-শাসক
ব্যাখ্যা
আল-ওয়ালি মানে যিনি সমগ্র সৃষ্টির পরিচালনার দায়িত্বে আছেন এবং সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন। রাষ্ট্রের ওয়ালি (শাসক) যেমন প্রজা পরিচালনা করেন, আল্লাহ তেমনি সারা বিশ্বব্রহ্মাণ্ড পরিচালনা করেন।
📖
সূরা আর-রাদ (১৩:১১): «وَمَا لَهُم مِّن دُونِهِ مِن وَالٍ» — “এবং তাঁকে ছাড়া তাদের কোনো পরিচালক নেই।”
৭৮
ٱلۡمُتَعَالِى
আল-মুতা’আলি
সর্বোচ্চে উন্নীত
ব্যাখ্যা
আল-মুতা’আলি মানে যিনি সর্ব বিষয়ে সর্বোচ্চে এবং সকলের উপরে — এমন উচ্চতায় যা কেউ ধারণও করতে পারে না। কোনো জিনিস তাঁকে সম্পূর্ণ বুঝতে বা তাঁর মতো হতে পারে না।
📖
সূরা আর-রাদ (১৩:৯): «عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ الْكَبِيرُ الْمُتَعَالِ» — “অদৃশ্য ও দৃশ্যের জ্ঞানী, মহান, সর্বোচ্চে উন্নীত।”
৭৯
ٱلۡبَرّ
আল-বার্র
পরম কল্যাণময়
ব্যাখ্যা
আল-বার্র মানে যিনি বান্দার প্রতি সর্বোচ্চ কল্যাণমূলক — তাঁর অনুগ্রহ ও দয়া সীমাহীন। মাতা-পিতার ভালোবাসা ‘বির্র’ — আর আল্লাহর বির্র তার চেয়ে অনেক বেশি। তিনি বান্দার ভালো চান নিঃস্বার্থভাবে।
📖
সূরা আত-তুর (৫২:২৮): «إِنَّهُ هُوَ الْبَرُّ الرَّحِيمُ» — “নিশ্চয়ই তিনিই পরম কল্যাণময়, পরম দয়ালু।”
৮০
ٱلتَّوَّاب
আত-তাওয়াব
তওবা কবুলকারী
ব্যাখ্যা
আত-তাওয়াব মানে যিনি বারবার তওবা কবুল করেন। বান্দা যদি বারবার পাপ করে বারবার তওবা করে, তিনি বারবার ক্ষমা করেন। ‘তওয়াব’ শব্দে মুবালাগা আছে — বারংবার, অফুরন্ত তওবা কবুল।
📖
সূরা আল-বাকারা (২:৩৭): «إِنَّهُ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ» — “নিশ্চয়ই তিনিই তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।”
৮১
ٱلۡمُنتَقِم
আল-মুনতাকিম
প্রতিশোধকারী
ব্যাখ্যা
আল-মুনতাকিম মানে যিনি অন্যায়কারীদের শাস্তি দেন এবং মজলুমের হক্ক আদায় করেন। এটি নিষ্ঠুরতা নয়, ন্যায়বিচার। যারা সীমা লঙ্ঘন করে, আল্লাহ তাদের থেকে প্রতিশোধ নেন — এটি তাঁর ন্যায়বিচারের প্রকাশ।
📖
সূরা আস-সাজদাহ (৩২:২২): «إِنَّا مِنَ الْمُجْرِمِينَ مُنتَقِمُونَ» — “নিশ্চয়ই আমরা অপরাধীদের থেকে প্রতিশোধ নেব।”
৮২
ٱلۡعَفُوّ
আল-আফুওয়্ব
মহাপার্দনকারী
ব্যাখ্যা
আল-আফুওয়্ব মানে যিনি পাপ সম্পূর্ণ মুছে দেন — শুধু ক্ষমা নয়, ক্ষমার চিহ্নটুকুও রাখেন না। গাফুর ক্ষমা করেন কিন্তু পাপের রেকর্ড থাকতে পারে; আফুওয়্ব পাপটি সম্পূর্ণ মুছে দেন।
📖
সূরা আন-নিসা (৪:৯৯): «وَكَانَ اللَّهُ عَفُوًّا غَفُورًا» — “আল্লাহ মহাপার্দনকারী, ক্ষমাশীল।”
৮৩
ٱلرَّءُوف
আর-রাউফ
অতি স্নেহশীল
ব্যাখ্যা
আর-রাউফ মানে যিনি অত্যন্ত কোমল ও স্নেহশীল। ‘রাহমা’ থেকে গভীরতর ‘রাউফ’ — এটি হৃদয়ের গভীর থেকে উৎসারিত কোমলতা। আল্লাহ বান্দার কষ্ট লাঘব করতে চান, তাদের বোঝা হালকা করতে চান।
📖
সূরা আল-হাজ্জ (২২:৬৫): «إِنَّ اللَّهَ بِالنَّاسِ لَرَءُوفٌ رَّحِيمٌ» — “নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল, পরম দয়ালু।”
৮৪
مَالِكُ ٱلۡمُلۡك
মালিকুল-মুলক
সাম্রাজ্যের মালিক
ব্যাখ্যা
মালিকুল-মুলক মানে যিনি সমগ্র রাজত্বের একমাত্র মালিক। তিনি যাকে ইচ্ছা রাজত্ব দেন, যার কাছ থেকে ইচ্ছা নিয়ে নেন। রাজা-বাদশাহ-রাষ্ট্রপ্রধান সবাই তাঁরই অনুমতিতে ক্ষমতায় থাকেন।
📖
সূরা আলে-ইমরান (৩:২৬): «قُلِ اللَّهُمَّ مَالِكَ الْمُلْكِ تُؤْتِي الْمُلْكَ مَن تَشَاءُ» — “বল: হে আল্লাহ! রাজত্বের মালিক, তুমি যাকে ইচ্ছা রাজত্ব দাও।”
৮৫
ذُو ٱلۡجَلَٰلِ وَٱلۡإِكۡرَام
যুল-জালালি ওয়াল-ইকরাম
মহিমা ও সম্মানের অধিপতি
ব্যাখ্যা
যুল-জালালি ওয়াল-ইকরাম মানে যিনি মহিমা ও সম্মান উভয়ের অধিপতি। ‘জালাল’ বলতে ভয়জনক মহত্ত্ব, ‘ইকরাম’ বলতে উদার মহানুভবতা। হাদিসে আছে — বেশি বেশি বলুন: “ইয়া যাল-জালালি ওয়াল-ইকরাম।”
📖
সূরা আর-রাহমান (৫৫:৭৮): «تَبَارَكَ اسْمُ رَبِّكَ ذِي الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ» — “মহাবরকতময় তোমার রবের নাম, যিনি মহিমা ও সম্মানের অধিপতি।”
৮৬
ٱلۡمُقۡسِط
আল-মুকসিত
ন্যায়বিচারক
ব্যাখ্যা
আল-মুকসিত মানে যিনি পরিপূর্ণ ন্যায়বিচার করেন এবং সবার মধ্যে সমতা রক্ষা করেন। পার্থিব বিচার ব্যবস্থা অসম্পূর্ণ, কিন্তু আল্লাহর বিচারে কোনো অবিচার নেই। প্রতিটি মজলুম কিয়ামতে তাঁর কাছে ন্যায় পাবে।
📖
সূরা আল-মায়িদা (৫:৪২): «إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ» — “নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচারকারীদের ভালোবাসেন।”
৮৭
ٱلۡجَامِع
আল-জামি’
সমবেতকারী
ব্যাখ্যা
আল-জামি’ মানে যিনি সব কিছু একত্রিত করেন। কিয়ামতের দিন তিনি সকল মানুষকে হিসাবের জন্য একত্রিত করবেন। বিপরীত বস্তু, বিভিন্ন প্রজাতি, বিভিন্ন সময়ের মানুষ — সবাইকে তিনি জমায়েত করবেন।
📖
সূরা আলে-ইমরান (৩:৯): «رَبَّنَا إِنَّكَ جَامِعُ النَّاسِ لِيَوْمٍ لَّا رَيْبَ فِيهِ» — “হে আমাদের রব! নিশ্চয়ই তুমি মানুষকে সেই দিনের জন্য একত্রিত করবে যাতে কোনো সন্দেহ নেই।”
৮৮
ٱلۡغَنِىّ
আল-গানিয়্য
অমুখাপেক্ষী ধনী
ব্যাখ্যা
আল-গানিয়্য মানে যিনি সম্পূর্ণ স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ — কারো কাছ থেকে কিছু গ্রহণ করার কোনো প্রয়োজন নেই। মানুষের ইবাদত তাঁর কোনো কাজে আসে না, মানুষের গোনাহও তাঁর কিছু ক্ষতি করে না।
📖
সূরা লুকমান (৩১:২৬): «وَإِنَّ اللَّهَ لَهُوَ الْغَنِيُّ الْحَمِيدُ» — “নিশ্চয়ই আল্লাহ অমুখাপেক্ষী ধনী, প্রশংসার যোগ্য।”
৮৯
ٱلۡمُغۡنِى
আল-মুগনি
সম্পদশালীকারী
ব্যাখ্যা
আল-মুগনি মানে যিনি বান্দাকে সমৃদ্ধ করেন এবং দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দেন। তিনি যাকে ইচ্ছা দুনিয়া দেন, যাকে ইচ্ছা আখিরাতের সম্পদ দেন। প্রকৃত সম্পদ শুধু বস্তুগত নয় — ঈমান, সন্তুষ্টি, শান্তিও তাঁর দান।
📖
সূরা আত-তওবা (৯:২৮): «وَإِنْ خِفْتُمْ عَيْلَةً فَسَوْفَ يُغْنِيكُمُ اللَّهُ مِن فَضْلِهِ» — “যদি তোমরা দারিদ্র্যের ভয় করো, তাহলে আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহে তোমাদের সমৃদ্ধ করবেন।”
৯০
ٱلۡمَانِع
আল-মানি’
বাধাদানকারী
ব্যাখ্যা
আল-মানি’ মানে যিনি যা প্রয়োজন তা দেওয়া থেকে বিরত রাখেন — তাঁর হিকমত ও পরিকল্পনায়। কখনো বান্দার জন্য কিছু না দেওয়াই কল্যাণকর। তিনি যা বন্ধ করেন তা খোলার ক্ষমতা কারো নেই।
📖
সূরা ফাতির (৩৫:২): «مَا يَفْتَحِ اللَّهُ لِلنَّاسِ مِن رَّحْمَةٍ فَلَا مُمْسِكَ لَهَا وَمَا يُمْسِكْ فَلَا مُرْسِلَ لَهُ مِن بَعْدِهِ» — “আল্লাহ মানুষের জন্য যে রহমতের দরজা খুলে দেন তা আটকানোর কেউ নেই এবং যা আটকান তা ছাড়ার কেউ নেই।”
৯১
ٱلضَّارّ
আদ-দার্র
ক্ষতি-ঘটনকারী
ব্যাখ্যা
আদ-দার্র মানে যিনি ইচ্ছা করলে ক্ষতি ও কষ্ট দিতে পারেন। এটি সৃষ্টির ক্ষতি করার নয়, বরং তাঁর সর্বময় নিয়ন্ত্রণের প্রকাশ। রোগ, বিপদ, পরীক্ষা — সবকিছুই তাঁর নিয়ন্ত্রণে। এই নাম সর্বদা নাফি’র সাথে পড়া হয়।
📖
সূরা ইউনুস (১০:১০৭): «وَإِن يَمْسَسْكَ اللَّهُ بِضُرٍّ فَلَا كَاشِفَ لَهُ إِلَّا هُوَ» — “যদি আল্লাহ তোমাকে কোনো ক্ষতি স্পর্শ করান, তাহলে তিনি ছাড়া কেউ তা দূর করতে পারবে না।”
৯২
ٱلنَّافِع
আন-নাফি’
কল্যাণদানকারী
ব্যাখ্যা
আন-নাফি’ মানে যিনি উপকার ও কল্যাণ দেন। সকল উপকার তাঁর কাছ থেকে আসে। চিকিৎসক সুস্থ করেন না, আসলে আল্লাহই সুস্থ করেন — চিকিৎসক শুধু মাধ্যম। সকল সুফল তাঁরই দান।
📖
সূরা ইউনুস (১০:১০৭): «وَإِن يُرِدْكَ بِخَيْرٍ فَلَا رَادَّ لِفَضْلِهِ» — “আর যদি তিনি তোমার কল্যাণ চান, তাহলে তাঁর অনুগ্রহ প্রতিহত করার কেউ নেই।”
৯৩
ٱلنُّور
আন-নুর
মহাজ্যোতি
ব্যাখ্যা
আন-নুর মানে যিনি নিজেই আলো এবং সমগ্র আসমান-জমিনকে আলোকিত করেন। তাঁর নূর ছাড়া কোনো কিছু দৃশ্যমান হত না। কুরআন তাঁর নূরের প্রকাশ, রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর নূরের বাহক।
📖
সূরা আন-নুর (২৪:৩৫): «اللَّهُ نُورُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ» — “আল্লাহ আসমান ও জমিনের জ্যোতি।”
৯৪
ٱلۡهَادِى
আল-হাদি
পথপ্রদর্শক
ব্যাখ্যা
আল-হাদি মানে যিনি সত্যের পথ দেখান। হেদায়েত দুই ধরনের: সাধারণ হেদায়েত (সৃষ্টির প্রতিটি বস্তুকে তার কাজের পথ দেখানো) ও বিশেষ হেদায়েত (মুমিনদের ঈমান ও জান্নাতের পথ দেখানো)।
📖
সূরা আল-ফুরকান (২৫:৩১): «وَكَفَىٰ بِرَبِّكَ هَادِيًا وَنَصِيرًا» — “তোমার রব পথপ্রদর্শক ও সাহায্যকারী হিসেবে যথেষ্ট।”
৯৫
ٱلۡبَدِيع
আল-বাদি’
অপূর্ব উদ্ভাবক
ব্যাখ্যা
আল-বাদি’ মানে যিনি কোনো পূর্ব নমুনা বা মডেল ছাড়াই অতুলনীয়ভাবে সৃষ্টি করেছেন। প্রতিটি সৃষ্টি তাঁর অনন্য শিল্পকর্ম। মানব মস্তিষ্ক, মহাবিশ্বের বিশালতা, একটি ফুলের গঠন — সবই তাঁর বাদি’ গুণের প্রমাণ।
📖
সূরা আল-বাকারা (২:১১৭): «بَدِيعُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ» — “তিনি আসমান ও জমিনের অপূর্ব উদ্ভাবক।”
৯৬
ٱلۡبَاقِى
আল-বাকি
চিরস্থায়ী
ব্যাখ্যা
আল-বাকি মানে যিনি চিরস্থায়ী — তাঁর অস্তিত্বের কখনো শেষ নেই। সব সৃষ্টি নশ্বর, কিন্তু তিনি অবিনশ্বর। “সবকিছুই ধ্বংস হবে, শুধু তাঁর সত্তা থাকবে” — এই বিশ্বাসই মুমিনকে দুনিয়ার প্রতি উদাসীন ও আখিরাতমুখী করে।
📖
সূরা আর-রাহমান (৫৫:২৬-২৭): «كُلُّ مَنْ عَلَيْهَا فَانٍوَيَبْقَىٰ وَجْهُ رَبِّكَ ذُو الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ» — “পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই ধ্বংস হবে; শুধু তোমার রবের সত্তা চিরস্থায়ী।”
৯৭
ٱلۡوَارِث
আল-ওয়ারিস
চিরন্তন উত্তরাধিকারী
ব্যাখ্যা
আল-ওয়ারিস মানে যিনি সবকিছুর পরে থাকেন এবং সব কিছুর চূড়ান্ত মালিক। সব মানুষ মরে যাবে, সব সম্পত্তি শেষ হবে, কিন্তু তিনি থাকবেন। সমগ্র সৃষ্টির মালিকানা শেষ পর্যন্ত তাঁর কাছেই ফিরে আসে।
📖
সূরা আল-হিজর (১৫:২৩): «وَإِنَّا لَنَحْنُ نُحْيِي وَنُمِيتُ وَنَحْنُ الْوَارِثُونَ» — “আমিই জীবন দিই, মৃত্যু দিই এবং আমিই চূড়ান্ত উত্তরাধিকারী।”
৯৮
ٱلرَّشِيد
আর-রাশিদ
সঠিক পথের প্রদর্শক
ব্যাখ্যা
আর-রাশিদ মানে যিনি সবকিছু সঠিক পথে পরিচালনা করেন এবং যাঁর সব পরিকল্পনা সুশৃঙ্খল ও সুপরিচালিত। তাঁর প্রতিটি সিদ্ধান্ত সঠিক লক্ষ্যে পরিচালিত। তিনি হেদায়েত ও সঠিক দিকনির্দেশনার উৎস।
📖
সূরা আল-বাকারা (২:২৫৬): «قَد تَّبَيَّنَ الرُّشْدُ مِنَ الْغَيِّ» — “সত্য পথ ভ্রান্ত পথ থেকে সুস্পষ্ট হয়ে গেছে।” (আল্লাহই রুশদ/সঠিক পথের উৎস।)
৯৯
ٱلصَّبُور
আস-সাবুর
মহা ধৈর্যশীল
ব্যাখ্যা
আস-সাবুর মানে যিনি পাপীদের তাৎক্ষণিক শাস্তি না দিয়ে ধৈর্যসহকারে অপেক্ষা করেন। এই ধৈর্য বান্দার জন্য রহমতের প্রকাশ — যাতে তারা তওবা করে ফিরে আসতে পারে। তবে তাঁর ধৈর্যের একটি সীমা আছে, এবং পরিণামে বিচার হবেই।
📖
সূরা ফাতির (৩৫:৪৫): «وَلَوْ يُؤَاخِذُ اللَّهُ النَّاسَ بِمَا كَسَبُوا مَا تَرَكَ عَلَىٰ ظَهْرِهَا مِن دَابَّةٍ» — “আল্লাহ যদি মানুষকে তাদের কর্মের জন্য তাৎক্ষণিক পাকড়াও করতেন, তাহলে পৃথিবীতে একটি প্রাণীও থাকত না।”
